চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সাবেক কমিশনার সাইফুল ইসলামকে শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) দুপুরে ঢাকায় তাকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা এ মামলায় সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আদালত তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন।
হৃদয় চন্দ্র তরুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। গত বছরের ১৬ জুলাই চান্দগাঁও এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি আহত হন এবং ২৩ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সাইফুল ইসলাম সিএমপির ৩২তম কমিশনার হিসেবে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি এমআরটি পুলিশের ডিআইজি এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশ বাহিনীতে রদবদলের অংশ হিসেবে তাকে চট্টগ্রাম থেকে বদলি করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হন এবং এ সংক্রান্ত ঘটনায় থানায় ও আদালতে অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
সাইফুল ইসলামের গ্রেপ্তারের পর তাকে চট্টগ্রামে এনে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় সিএমপির বর্তমান কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নগরের চান্দগাঁও থানায় গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ মামলায় সাবেক পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলামকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে।
সাইফুল ইসলামের গ্রেপ্তার দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে জবাবদিহিতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত ঘটনাবলীর সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।